যাঁরা বলেন,ভেন্টিলেশনে পেশেন্ট দের রাখা হয়,ডাক্তার দের মুনাফা বৃদ্ধির জন্যে....হাসপাতাল এর বিল ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বাড়ানোর জন্যে.....
আচ্ছা প্রথমেই নিজের বর্ণনা দিয়ে রাখি,অন্তত এটা প্রমান হোক এই দীর্ঘ লেখাটা দিয়ে ভাওতাবাজি করতে আসিনি..আমি একজন ডাক্তার, হ্যা পাস করা!দীর্ঘ 12 বছর পড়াশুনা করে দুটি ডিগ্রী অর্জন করতে পেরেছি মাত্র, এখন pediatrician,মানে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ....এখন আবার সরকারি ডাক্তার....হ্যা সরকারি হাসপাতাল,এখনো যেখানে 2টাকা OPD টিকিট কেটে আর বিনেপয়সার indoor চিকিৎসা নিয়ে যাচ্ছে হাজারো লাখো মানুষ....দুঃখ্যের কথা তারা ঝাঁ চকচকে পাঁচতারা হাসপাতাল এর চিকিৎসা কেনার ক্ষমতা এখনো অর্জন করতে পারে নি,তাই হয়তো নিজের ড্রয়িং রুম এর আরামদায়ক sofa তে বসে চটকদারি FB/Whatsaap post শেয়ার করে না...
অতএব,এই লেখাটাই আমার কোনো লাভ নেই বা Conflict of interest কিছু হওয়ার জায়গা নেই| বহুবছর ধরে "ভেন্টিলেশনে পেশেন্ট দের রাখা হয়,ডাক্তার দের মুনাফা বৃদ্ধির জন্যে....হাসপাতাল এর বিল ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বাড়ানোর জন্যে"....এই ধরণের পোস্ট দেখে আসছি...ignore করেছি,যেটা করা আজকের social media র বাড়বাড়ন্তে খুব দরকার বলে মনে করি...কিন্তু আজ হঠাৎ লিখতে বসলাম একটাই কারণে.....বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার কিছু অতীব চেনা মানুষগুলো যখন এই ধরণের পোস্ট করে চলেছে,এবং সেগুলো তে অতীব সবজান্তা আরও কিছু মানুষ যখন comment ar comment এ ভরিয়ে দিচ্ছে....তখন বাধ্য হলাম....
প্রথমে জেনে নি ভেন্টিলেশন কি?
ভেন্টিলেটর যন্ত্র আবিষ্কার হয়েছিল1930 এর দশকে পোলিও মহামারী র সময়| ওই রোগটি তে যেমন পা এর মাংসপেশি বিকল হয়ে বিকলাঙ্গ হয় সেরকমই স্বাসপ্রস্বাসের মাংসপেশি(diaphragm) বিকল হয়ে পেশেন্ট দের শ্বাসকষ্ট,পরে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়| ভেন্টিলেটর এমন একটি কৃত্তিম শ্বাসযন্ত্র যাতে করে পেশেন্ট এর শ্বাসপ্রস্বাস টা কৃত্তিম ভাবে চালু করে রাখা যায়|
ভেন্টিলেটর, কোনো নবজাতক বাচ্চা যখন নিস্বাস নেওয়া বন্ধ করে দেয়(apnea) তখন তার নিঃস্বাস যেমন চালিয়ে রাখে,তেমন কোনো অবচেতন(unconscious) মানুষের শ্বাসনালী তে যাতে থুতু/লালা(secretions) ঢুকে তাকে বিকল না করে দেয়,সেক্ষেত্রেও কাজে দেয়|
তাই....পেশেন্ট নিঃস্বাস না নিলে বা স্বাসে কষ্ট থাকলেও যেমন ভেন্টিলেটর এর সাহায্য নেওয়া হয়,তেমনি শ্বাস এর সমস্যা না থাকলেও,অন্য কারণেও এর সাহায্য নেওয়া হয়|
Confusion # 1: ভেন্টিলেশন এ দিলেই পেশেন্ট এর মৃত্যু,তাও মুনাফা বাড়ানোর জন্যে ভেন্টিলেশন এ রাখা হয়....
প্রথম কথা ভেন্টিলেশন অবশ্যই একটি অত্যন্ত advanced management option....মানে....পেশেন্ট দের অবস্থা খুব খারাপ না হলে ভেন্টিলেটর এ দেওয়া হয় না....কোনো পেশেন্ট gasping অবস্থায় এলে,তাকে 'emergency ventilation' এ দিতেই হয়| ডাক্তারবাবুরা যতক্ষন পেশেন্ট এর প্রাণ আছে ততক্ষন লড়াই টা চালিয়ে যাওয়ার জন্যে চেষ্টা করেন,আর সেই precious Time buy করে দেয় এই ভেন্টিলেটর|
আবার যেখানে পেশেন্ট অতটা মরণাপন্ন নন,সেখানেও 'elective Ventilation' এ রাখা হয়....যেখানে আগে ভাগে পেশেন্ট এর শ্বাসযন্ত্র বিকল হতে পারে অনুমান করে ভেন্টিলেশন এ রাখা হয়....এসব ক্ষেত্রে ভেন্টিলেশন থেকে ভালো হওয়ার হার 90%| উদাহরণ..GB syndrome বলে একটি রোগ....না ওই অনুমান আপনি করতে পারবেন না,ওর জন্যে ডাক্তারি পড়ার জন্যে ছোট থেকে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়|
যাইহোক...তারমানে ভেন্টিলেশন মানেই....ডাক্তার যমরাজ সেজে এসেছে,ভাববেন না|
Confusion#2: ভেন্টিলেশন এ পেশেন্ট কি নিজে নিঃস্বাস নিচ্ছে?ওর তো হাত পা এর কোনো movement ই নেই,ও কি already মারা গেছে???
একটা জিনিস ভাবুন,আপনার গলা দিয়ে কেউ একটা বাঁশি র size এর নল আপনার শ্বাসনালীর গভীরে প্রবেশ করিয়েছে,আপনার কেমন লাগবে??? হ্যা ভেন্টিলেশনে থাকা পেশেন্ট ও চরম বেদনায় হাত পা ছুড়তে থাকবে,আর নলটি যাবে খুলে| তাই এই পেশেন্ট দের Deep Sedation রাখা হয়,যাতে করে তার body movement বন্ধ থাকে,এবং নিঃস্বাস প্রস্বাস ও synchronised হয় মেশিন এর সাথে....পরে অবশ্য পেশেন্ট এর উন্নতি হলে,আসতে আসতে sedation কমালে আবার সব movement ফিরে আসে.....এই পুরো প্রক্রিয়াটা খুব gradual হয় আর পেশেন্ট মাফেকে তারতম্য হয়|
Confusion #3: এতদিন পেশেন্ট কে ভেন্টিলেশন এ রাখার মানে কি??পয়সা বাড়ানো আর কি...
প্রথমেই বলি....Medical Science...is not Mathematics...it is an imperfect science.... যেখানে...2+2= কখনো 4 হয় না..আর হয় না বলেই হয়তো expert দের দরকার হয়....
পেশেন্ট কতদিন ভেন্টিলেশন এ থাকবে সেটা নির্ভর করে অনেক গুলো ফ্যাক্টর এর ওপর..
1.পেশেন্ট এর কি অবস্থায় ভেন্টিলেশন শুরু করা হয়..যেমন elective ventilation is better than emergency ventilation in terms of successful outcome.
2.পেশেন্ট কত তাড়াতাড়ি তার প্রাথমিক রোগ টি থেকে সেরে উঠছে|
3.ভেন্টিলেটর এর জন্যে কোনো নতুন complication দেখা দিয়েছে কিনা...
তাই কোনো কোনো ক্ষেত্রে 3 দিন লাগে আবার কোনো ক্ষেত্রে কয়েকমাস লাগে ভেন্টিলেটর থেকে বেরোতে এবং দুর্ভাগ্যজনক অবস্থায় ভেন্টিলেটর এও পেশেন্ট মারা যায়|
Confusion #3: এত পয়সা খরচ করে ভেন্টিলেশন এ রাখলাম,তাও পেশেন্ট কে খারাপ করে দিলো|
এতক্ষনে বুঝে গেছেন নিশ্চই, পেশেন্ট খুব খারাপ থাকলেই বা প্রয়োজন হলেই ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়....তাই ডাক্তার এর ইচ্ছে হলো আর একটু ভেন্টিলেটর দিয়ে দিলাম,এটা হয় না|ভেন্টিলেটর এ দিলে বরঞ্চ ডাক্তার এর বেশি headache থাকে....আসুন জেনে নি কেন?
Ventilator Related Complication.....অনেক হয়,প্রায় প্রতিটা পেশেন্ট দেরি কমবেশি হয়,গুনে বলতে গেলে 100ছাড়িয়ে যাবে....তারমধ্যে বেশিরভাগই preventable,কিছু ক্ষেত্রে আমাদেরও কিছু করার থাকে না...উদাহরণ স্বরূপ,
VAP- Ventilator Associated Pneumonia...মানে ভেন্টিলেটর এ পেশেন্ট থাকলে,আগে Pneumonia না থাকলেও পরে হয়ে যেতে পারে| Pneumothorax- মানে আপনার সুস্থ lungs দুম করে ফেটে গিয়ে সমস্যার একশেষ হতে পারে....
মাথায় রাখতে হবে,যত বেশিদিন ভেন্টিলেটর এ পেশেন্ট থাকে তত এই complication এর প্রবণতা বাড়তে থাকে...
তাই ডাক্তার মনপ্রাণ দিয়ে চায় যাতে পেশেন্ট ভেন্টিলেটর এ না ওঠে|এটা প্রতিটা ডাক্তার এর মনের কথা বললাম|তাই ও ধারণাও আপনার ভুল যে ডাক্তার ইচ্ছে করে বেশিদিন ভেন্টিলেটর এ রেখে দিয়েছে|
Confusion#4: আমার পেশেন্ট তো মারাই গেছেন,তাও ভেন্টিলেটর এ রেখে বিল বাড়াচ্ছে
প্রথম কথা আপনাকে জানতে হবে....অনেক গুলো term...Brain death,Tissue death,Organ death etc...অনেক ক্ষেত্রেই Brain death হলেও পেশেন্ট কে মৃত ঘোষণা করা হয় না....এইসব ক্ষেত্রে একটা committee গঠন করে death declare করা হয়....কি মুশকিল...আবার দেখুন expert দের দরকার পরছে|
আবার এও দেখা গেছে....কম % হলেও,কিছু পেশেন্ট braindeath হওয়ার পরেও পেশেন্ট দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে(প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি বাবু র কথা না জানলে জানুন)
তাই brain death হলেও আমরা পেশেন্ট দের চিকিৎসা/ভেন্টিলেশন চালিয়ে যাই...বিদেশে এসব ক্ষেত্রে স্বেচ্ছামৃত্যু(euthanesia) র consent বাড়ির প্রিয়জন দিলে ভেন্টিলেশন ধীরে ধীরে বন্ধ করার আইন থাকলেও,এদেশে নেই....তাই আমরা brain death হলেও আইনত চিকিৎসা বা ভেন্টিলেশন বন্ধ করতে পারি না,সে যত আপত্তি থাকুক আপনার|
সর্বোপরি...আমার কিছু observation শেয়ার করি....
Internet,Globalisation....আমাদের ব্যাপক ভাবে empower করেছে....আমরা বলতে গেলে information এ ঠাসা হয়ে গেছি....সেই সুযোগ নিয়ে কিছু মানুষ ভুল information দিয়ে যাচ্ছে আপনাকে আর আপনিও নিজের জ্ঞানবুদ্ধি অন্য কারো কাছে বন্ধক রেখে সেগুলো কে শুধু share ই করছেন না,ওতপ্রোত ভাবে মেনেও নিচ্ছেন....
তাই হয়তো....কোনোদিন আপনি ডাক্তার, কোনোদিন আপনি Virologist, পরের দিন আবার epidemiologist...
তার থেকে ভালো হয় নাকি....আপনার নিজের নিজের দক্ষতা,hobby,ভালোলাগা তে time invest করা...
যাঁরা যে বিষয়ে expert(doctor,Lawyer,engineer,teacher) তাদের সে বিষয় টা তে কথা বলতে দেওয়ার অধিকার কি দেওয়া যায় না??
আপনি computer এ কাজ করতে জানলেও,computer কাজ না করলে,একজন software engineer এর ওপর ভরসা করাটা কি অন্যায়...
আপনি যতই তর্কবিশারদ হন না কেন, court এ তর্ক কিন্তু Lawyer রাই করেন...
তাদের professional fees/ Remuneration for Expertise......নরমাল মানুষের থেকে বেশি হবে..এতে আশ্চর্য কেন হচ্ছেন...নিজের ছেলেমেয়েদের তো...ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার করবেন বলে তাদের ছেলেবেলাটা নষ্ট করে চলেছেন দিনরাত....তাই নিজের Skill গুলোতে সান দিন আর অন্য Skillful লোকেদের ভরসা করুন|
কথাগুলো খারাপ লাগলেও ভাববেন....অবসর সময়ে....rather than spreading misinformation through FB/@Whatsapp
#Spreading Misinformation is a Crime
.......ইতি.....ডাঃ শুভজিৎ ভক্তা|
Spreading Misinformation is a crime.
Comments
Post a Comment