কালিম্পঙ সার্কিট ভ্রমণ।
প্রথম দিন : জলঢাকা
পাহাড় আর ডুয়ার্স, উত্তরবঙ্গের দুটি অনন্য উপহার, দুটো আলাদা স্বাদের, আলাদা গন্ধের, আলাদা আবেশের, কিন্তূ দুটোই একইভাবে আমাদের অভিভূত করে। আচ্ছা যদি দুটোর স্বাদ একবারে মেটানো যায়. মেটানো কি সম্ভব? বোধহয় নয়। দেখা যাক। হাতে মাত্র চারটে রাত।
নবমীর রাতে পদাতিক ধরে বেরিয়ে পড়লাম। আমরা দুজন couple আর আমাদের দু -দুটি পুচকি মেয়ে!আমাদের মেয়ে 'কিকি ' আর সৌম্য -শ্রাবনীর মেয়ে 'ওলি '। NJP তে বিফোর টাইম পৌঁছে গেছি। তাই দশমীর সকালটা একটা ইতিবাচক ভালো লাগা দিয়ে শুরু হয়ে গেলো। আজকের গন্তব্য 'জলঢাকা'। ঠিকই ধরেছেন, এটা জলঢাকা নদীর পাশেই.. যারা জায়গাটার নামের সাথে পরিচিত নন তারা নিশ্চই ঝালং বা বিন্দু র নাম শুনেছেন। হ্যা,জলঢাকা জায়গাটা এদেরই কাছাকাছি।
NJP থেকে আমাদের ড্রাইভার সঞ্জিত আমাদের নিয়ে যাচ্ছিলো একটা অচেনা রাস্তা দিয়ে, অন্তত আমার কাছে অচেনা। রাস্তাটা বেশ নির্জন, নতুন হয়েছে বোধহয়। খুবই কমসংখক টুরিস্ট ভেহিকেল ছুটছে আমাদের সাথে। দেখে বোঝার জো নেই যে পুজোর ছুটিতে নর্থ বেঙ্গল বেড়াতে এসেছি, এই প্রথমদিনের নির্জনতার স্বাদ থেকে গেছিলো আমাদের পুরো ট্যুরটাতে। নতুন তৈরি সেই রাস্তা ধরে চলে এলাম 'গাজোলডোবা 'তিস্তা ব্যারেজ। ব্রেকফাস্ট সারলাম এখানেই। তিস্তা ব্যারেজ এর ঠিক পাশেই রয়েছে ব্রেকফাস্ট করার কিছু দোকান। শীতকালে গাজোলডোবা পক্ষীপ্রেমীদের কাছে হয়ে ওঠে ফেভারিট ডেস্টিনেশন। এখানে আছে একটা পিকনিক স্পটও।
ব্রেকফাস্ট সেরে গাড়িতে উঠে বসলাম। বেশ তাড়াতাড়িই এই রাস্তা ধরে মালবাজার, চালসা হয়ে পৌঁছে গেলাম চাপড়ামারি অভয়ারণ্য। ডুয়ার্সের অনবদ্য মসৃন রাস্তার একদিকে চা বাগান, আর চা বাগানের ওপর দিয়ে অনতিদূরে সবুজ পাহাড় এর দৃশ্য, মালবাজার হয়ে চালসা র রাস্তার প্রধান USP. চাপড়ামারি র শাল -সেগুন এর বুক চিরে রাস্তাতে যখন গাড়ি ছুটে চলেছে তখন আগেরবার এই চাপড়ামারিতেই একটা ক্লাউডেড লেপার্ড দেখার কথা মনে পড়ে গেলো।
জলঢাকা যেতে গেলে ঝালং পেরিয়ে যেতে হয়। আপার পারেন ও লোয়ার পারেন এর মাঝে ছবির মতো সুন্দর জলঢাকা গ্রাম, তার ওপর উপরি পাওনা আমাদের আজকের হোমস্টে, হুমরো RJ হোমস্টে। নির্জন নির্লিপ্ত জায়গাটির প্রধান আকর্ষণ পাশের খরস্রোতা জলঢাকা নদীর গর্জন। নির্জনতা ও গর্জন যে একে ওপরের পরিপূরক হতে পারে সেটা এই জায়গায় না এলে বুঝতাম না। নদীর ঠিক উল্টো পাড়ের জনবসতিশূন্য পাহাড়টা ভুটান.. যেন হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে ফেলা যায়।
দুপুরের খাওয়া সেরে বেরিয়ে পড়লাম গ্রামটা পায়ে পায়ে ঘুরতে..ছোট গ্রাম, সুসজ্জিত পাহাড়ি বাড়ি, প্রতিটি বাড়িতে রংবেরঙের ফুলের গাছ,একটা চার্চ, এখানে সেখানে রঙিন তিব্বতী পতাকা র বাহার.. আর সর্বোক্ষন খড়স্রোতার গর্জন বুকে আঁকড়ে ধরে পথ চলা জলঢাকার। সময় হলে ঘুরে আসতে পারেন কাছেই.. বিন্দু তে..আমরা পরের দিন সকালে ধীরে সুস্থে বিন্দু ঘুরে বেরিয়ে পড়লাম আমাদের পরের গন্তব্যে।আজকে যাবো 'ঝান্ডি '.............. to be cont...
তিস্তা ব্যারেজ, গাজোলডোবা
জলঢাকা নদী
জলঢাকা নদী আমাদের হোমস্টে থেকে, উল্টোদিকের পাহাড়টা ভুটান.
বিন্দু
প্রথম দিন : জলঢাকা
পাহাড় আর ডুয়ার্স, উত্তরবঙ্গের দুটি অনন্য উপহার, দুটো আলাদা স্বাদের, আলাদা গন্ধের, আলাদা আবেশের, কিন্তূ দুটোই একইভাবে আমাদের অভিভূত করে। আচ্ছা যদি দুটোর স্বাদ একবারে মেটানো যায়. মেটানো কি সম্ভব? বোধহয় নয়। দেখা যাক। হাতে মাত্র চারটে রাত।
নবমীর রাতে পদাতিক ধরে বেরিয়ে পড়লাম। আমরা দুজন couple আর আমাদের দু -দুটি পুচকি মেয়ে!আমাদের মেয়ে 'কিকি ' আর সৌম্য -শ্রাবনীর মেয়ে 'ওলি '। NJP তে বিফোর টাইম পৌঁছে গেছি। তাই দশমীর সকালটা একটা ইতিবাচক ভালো লাগা দিয়ে শুরু হয়ে গেলো। আজকের গন্তব্য 'জলঢাকা'। ঠিকই ধরেছেন, এটা জলঢাকা নদীর পাশেই.. যারা জায়গাটার নামের সাথে পরিচিত নন তারা নিশ্চই ঝালং বা বিন্দু র নাম শুনেছেন। হ্যা,জলঢাকা জায়গাটা এদেরই কাছাকাছি।
NJP থেকে আমাদের ড্রাইভার সঞ্জিত আমাদের নিয়ে যাচ্ছিলো একটা অচেনা রাস্তা দিয়ে, অন্তত আমার কাছে অচেনা। রাস্তাটা বেশ নির্জন, নতুন হয়েছে বোধহয়। খুবই কমসংখক টুরিস্ট ভেহিকেল ছুটছে আমাদের সাথে। দেখে বোঝার জো নেই যে পুজোর ছুটিতে নর্থ বেঙ্গল বেড়াতে এসেছি, এই প্রথমদিনের নির্জনতার স্বাদ থেকে গেছিলো আমাদের পুরো ট্যুরটাতে। নতুন তৈরি সেই রাস্তা ধরে চলে এলাম 'গাজোলডোবা 'তিস্তা ব্যারেজ। ব্রেকফাস্ট সারলাম এখানেই। তিস্তা ব্যারেজ এর ঠিক পাশেই রয়েছে ব্রেকফাস্ট করার কিছু দোকান। শীতকালে গাজোলডোবা পক্ষীপ্রেমীদের কাছে হয়ে ওঠে ফেভারিট ডেস্টিনেশন। এখানে আছে একটা পিকনিক স্পটও।
ব্রেকফাস্ট সেরে গাড়িতে উঠে বসলাম। বেশ তাড়াতাড়িই এই রাস্তা ধরে মালবাজার, চালসা হয়ে পৌঁছে গেলাম চাপড়ামারি অভয়ারণ্য। ডুয়ার্সের অনবদ্য মসৃন রাস্তার একদিকে চা বাগান, আর চা বাগানের ওপর দিয়ে অনতিদূরে সবুজ পাহাড় এর দৃশ্য, মালবাজার হয়ে চালসা র রাস্তার প্রধান USP. চাপড়ামারি র শাল -সেগুন এর বুক চিরে রাস্তাতে যখন গাড়ি ছুটে চলেছে তখন আগেরবার এই চাপড়ামারিতেই একটা ক্লাউডেড লেপার্ড দেখার কথা মনে পড়ে গেলো।
জলঢাকা যেতে গেলে ঝালং পেরিয়ে যেতে হয়। আপার পারেন ও লোয়ার পারেন এর মাঝে ছবির মতো সুন্দর জলঢাকা গ্রাম, তার ওপর উপরি পাওনা আমাদের আজকের হোমস্টে, হুমরো RJ হোমস্টে। নির্জন নির্লিপ্ত জায়গাটির প্রধান আকর্ষণ পাশের খরস্রোতা জলঢাকা নদীর গর্জন। নির্জনতা ও গর্জন যে একে ওপরের পরিপূরক হতে পারে সেটা এই জায়গায় না এলে বুঝতাম না। নদীর ঠিক উল্টো পাড়ের জনবসতিশূন্য পাহাড়টা ভুটান.. যেন হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে ফেলা যায়।
দুপুরের খাওয়া সেরে বেরিয়ে পড়লাম গ্রামটা পায়ে পায়ে ঘুরতে..ছোট গ্রাম, সুসজ্জিত পাহাড়ি বাড়ি, প্রতিটি বাড়িতে রংবেরঙের ফুলের গাছ,একটা চার্চ, এখানে সেখানে রঙিন তিব্বতী পতাকা র বাহার.. আর সর্বোক্ষন খড়স্রোতার গর্জন বুকে আঁকড়ে ধরে পথ চলা জলঢাকার। সময় হলে ঘুরে আসতে পারেন কাছেই.. বিন্দু তে..আমরা পরের দিন সকালে ধীরে সুস্থে বিন্দু ঘুরে বেরিয়ে পড়লাম আমাদের পরের গন্তব্যে।আজকে যাবো 'ঝান্ডি '.............. to be cont...
তিস্তা ব্যারেজ, গাজোলডোবা
জলঢাকা নদী
জলঢাকা নদী আমাদের হোমস্টে থেকে, উল্টোদিকের পাহাড়টা ভুটান.
বিন্দু
বিন্দুতে সিন্ধু









Comments
Post a Comment