//রাঙারুন এ কিছুক্ষন //
ঘন পাইন বন, এবড়ো খেবড়ো রাস্তা, একটা নামকরা চা বাগান এবং তার গল্পগাথা, দার্জিলিং শহরটাকে ঠিক সামনে রেখে কাঞ্চনজঙ্ঘা কে চোখে ধরা... এই নিয়ে বেঁচে থাকে এক অতীব সুন্দর, নির্জন গ্রাম.... আমার তোমার 'রাঙ্গারুন '|
বাঙালিদের গরমের ছুটিতে পাহাড় যাওয়া চাইই চাই |
দার্জিলিং, কালিম্পঙ, গ্যাংটক এ শ্বাসরুদ্ধ হওয়া আমরা তাই offbeat লোকেশন এর খোঁজ এ থাকি সারাক্ষন | তাই কখনো চলে যাই পশ্চিম সিকিমের 'ওখরে ' গ্রাম, কখনো বা 'তিনচুলে'|
নয়মাসের ছোট্ট 'কিকি '(আমার ছোট্ট মেয়ে ) কে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম পোটলা বেঁধে, সবাই মিলে আমরা আট জন | কার্সিয়ং এ আগের রাত কাটিয়ে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়া গেলো | সকাল থেকে অবশ্য পাহাড়ের মুখ ভার | ঢুকে পড়েছে প্রাক -বর্ষা, যেটা জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে খুবই স্বাভাবিক |রাঙ্গারুন পান্ডব বর্জিত জায়গা না হলেও খুব পরিচিতও নয়, এমনকি আমাদের পাহাড়ি ড্রাইভার এর কাছেও জায়গাটা অচেনা | জোড়বাংলো থেকে লামাহাটা যাওয়ার পথে তিনমাইল থেকে বামদিকে বেঁকে গেছে একটা অচেনা গলি, মোড়ের চা দোকানিটা চিনিয়ে দিলো সেই রাস্তা |
উৎরাই পাথুরে রাস্তা ধরে ধীরে ধীরে নামতে থাকে টাটা সুমো | বৃষ্টি আর পড়ে থাকা গাছের ভেজা পাতা মিলে সেই রাস্তাকে যেন আরো বিপদসঙ্কুল করে তুলেছে | পাইনের জঙ্গলে আটকে থাকা কুয়াশা, সৰ্পিল ও পিচ্ছিল রাস্তা, নির্জনতা সব মিলে মিশে এক অচেনা গন্তব্যের খোঁজে আমরা চলেছি |এরকমই এক পাহাড়ের বাঁকে গুটিকয়েক বাড়ি নিয়ে সুখের সংসার যেন রাঙ্গারুন |
উঠলাম 'Khaling Cottage' এ | অচেনা পাহাড়ি গ্রামে হোমস্টের আতিথেয়তা ও আন্তরিকতা এক অন্য মাত্রা এনে দেয় | জনৈক কিস্মত রাই মহাশয়ের এই কটেজ দিয়েই শুরু হয়েছিল এখানের ট্যুরিজম সেই 2013 সালে | গরম দার্জিলিং চা এর ফ্লেভারে মনের ধূসরতা কাটে, সঙ্গে যেন পাল্লা দিয়ে প্রকৃতির ধূসরটাও কাটতে থাকে ধীরে ধীরে | বেলা বাড়ার সাথে সাথে উজ্জ্বল হয় দিকবিদিক | লাঞ্চ সেরে তাই আমরা বেরিয়ে পড়লাম পায়ে পায়ে গ্রামটা ঘুরে দেখবো বলে | জমে থাকা কুয়াশাঘেরা একটা মিষ্টি গ্রাম, মাঝেমধ্যে রোদের উঁকিঝুঁকি, রাস্তাটা যদিও এখনো পিচ্ছিল | রাস্তার বাঁকে স্কুলফেরত বাচ্চারা আমাদের দেখে কেন হাসছে জানিনা | অচেনা পাহাড়ি ফুলের গন্ধ আর নাম না জানা অনেক পাখির কিচিরমিচির, নির্জনতাকে সঙ্গী করে পথচলা বোধহয় একেই বলে | জিজ্ঞেস করে করে পৌঁছে গেলাম সেই বিখ্যাত রাঙ্গারুন টি এস্টেট এর চা বাগানে | শুধু বিস্তার আর ব্যাপ্তিতে নয়, এই বাগানের চা এর গুনমানেরও জুড়ি মেলা ভার | একসময় এই চা বাগানের আশি শতাংশ চা ই নাকি পৌঁছে যেত 'বাকিংহাম প্যালেস ' এ |
চা বাগান শেষ হতেই দূরে ওইতো দার্জিলিং শহর, ঠিক যেন হাতবাড়ালেই ছোঁয়া যায় | দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো, পরিবেশ আগের থেকে পরিষ্কার কিন্তূ অবাধ্য মেঘগুলো কেন জানিনা এখনো দূর আকাশ ঢেকে রেখেছে !'ঘুমন্ত বুদ্ধ 'কে না দেখতে দেওয়ার অভিসন্ধি যেন |
রাতের রাঙ্গারুন যেন আরও নিথর, আরও বিচ্ছিন্ন |আমাদের হোমস্টের মালিকের সুপুত্র আবার সংগীতশিল্পী | ডিনার শেষে নেপালি গান, গিটার, ড্রাম সহযোগে এই ঐকতান ভোলার নয় | নিজের ঘরে ফিরে দেখি, দার্জিলিং শহরটা যেন এক অজানা ছায়াপথ রচনা করেছে রাতের আকাশে; ঠিক যেন শতসহস্র তারা-নক্ষত্রের ভিড় জমেছে | চেনা শহরটাকে নতুন করে চিনতে শেখালো এই রাঙ্গারুন |
'আশায় বাঁচে চাষা '!ভোর থেকে ক্যামেরা- ট্রাইপড নিয়ে তৈরি আমরা, যদি ওনার দেখা পাওয়া যায় |ভোরের আলো ফোটার সাথে মোরগের ডাক বোধহয় গ্রাম বলেই সম্ভব | না, মেঘ করে আছে এখনো, হয়তো এ যাত্রায় হবার নয়| ভালো করে আলো ফুটলে সামনের পাহাড়ে দার্জিলিং টা দেখা গেলো, আসার আলো ফুটলো যেন | ততক্ষণে আমাদের চা ব্রেকফাস্ট সারা হয়ে গেছে | একটু একটু করে মেঘ ঠেলে উঁকি মারছে সাউথ কাব্রু|আরও একটু পর নর্থ কাব্রু আর কাঞ্চনজঙ্ঘা র নিচের দিকটা |কাঞ্চনজঙ্ঘা কে পুরো ধরা গেলো অনেক পরে | প্রতিবারের মতোই গুণমুগ্ধ ও রূপমুগ্ধ মরণশীল আমি পাথরের মতো দাঁড়িয়ে থাকলাম কিছুক্ষন | ঘোর যখন কাটে, নিচের ঘন মেঘ পাহাড় বেয়ে উঠতে শুরু করেছে ততক্ষনে | হাতে সময় কম, হয়তো আর একটা দিন থেকে গেলে বেশ হতো | বেশ হতো যদি সময় করে সব অজানা পাখিদের নাম জানা যেতো কিংবা হারিয়ে যাওয়া যেত কুয়াশা ঘেরা পাইনের অন্তরালে | সঙ্গী হতো একটা ক্যানভাস;দার্জিলিং শহরকে বুকে নিয়ে ঘুমিয়ে থাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা |
Homestay-Khaling Cottage, Rangaroon
Contact-Mr Kismat Rai and Family
9800835301, 8116013554
রাঙ্গারুন টি এস্টেট
রাতের দার্জিলিং শহর
কাঞ্চনজঙ্ঘা, সামনে দার্জিলিং শহর
ঘন পাইন বন, এবড়ো খেবড়ো রাস্তা, একটা নামকরা চা বাগান এবং তার গল্পগাথা, দার্জিলিং শহরটাকে ঠিক সামনে রেখে কাঞ্চনজঙ্ঘা কে চোখে ধরা... এই নিয়ে বেঁচে থাকে এক অতীব সুন্দর, নির্জন গ্রাম.... আমার তোমার 'রাঙ্গারুন '|
বাঙালিদের গরমের ছুটিতে পাহাড় যাওয়া চাইই চাই |
দার্জিলিং, কালিম্পঙ, গ্যাংটক এ শ্বাসরুদ্ধ হওয়া আমরা তাই offbeat লোকেশন এর খোঁজ এ থাকি সারাক্ষন | তাই কখনো চলে যাই পশ্চিম সিকিমের 'ওখরে ' গ্রাম, কখনো বা 'তিনচুলে'|
নয়মাসের ছোট্ট 'কিকি '(আমার ছোট্ট মেয়ে ) কে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম পোটলা বেঁধে, সবাই মিলে আমরা আট জন | কার্সিয়ং এ আগের রাত কাটিয়ে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়া গেলো | সকাল থেকে অবশ্য পাহাড়ের মুখ ভার | ঢুকে পড়েছে প্রাক -বর্ষা, যেটা জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে খুবই স্বাভাবিক |রাঙ্গারুন পান্ডব বর্জিত জায়গা না হলেও খুব পরিচিতও নয়, এমনকি আমাদের পাহাড়ি ড্রাইভার এর কাছেও জায়গাটা অচেনা | জোড়বাংলো থেকে লামাহাটা যাওয়ার পথে তিনমাইল থেকে বামদিকে বেঁকে গেছে একটা অচেনা গলি, মোড়ের চা দোকানিটা চিনিয়ে দিলো সেই রাস্তা |
উৎরাই পাথুরে রাস্তা ধরে ধীরে ধীরে নামতে থাকে টাটা সুমো | বৃষ্টি আর পড়ে থাকা গাছের ভেজা পাতা মিলে সেই রাস্তাকে যেন আরো বিপদসঙ্কুল করে তুলেছে | পাইনের জঙ্গলে আটকে থাকা কুয়াশা, সৰ্পিল ও পিচ্ছিল রাস্তা, নির্জনতা সব মিলে মিশে এক অচেনা গন্তব্যের খোঁজে আমরা চলেছি |এরকমই এক পাহাড়ের বাঁকে গুটিকয়েক বাড়ি নিয়ে সুখের সংসার যেন রাঙ্গারুন |
উঠলাম 'Khaling Cottage' এ | অচেনা পাহাড়ি গ্রামে হোমস্টের আতিথেয়তা ও আন্তরিকতা এক অন্য মাত্রা এনে দেয় | জনৈক কিস্মত রাই মহাশয়ের এই কটেজ দিয়েই শুরু হয়েছিল এখানের ট্যুরিজম সেই 2013 সালে | গরম দার্জিলিং চা এর ফ্লেভারে মনের ধূসরতা কাটে, সঙ্গে যেন পাল্লা দিয়ে প্রকৃতির ধূসরটাও কাটতে থাকে ধীরে ধীরে | বেলা বাড়ার সাথে সাথে উজ্জ্বল হয় দিকবিদিক | লাঞ্চ সেরে তাই আমরা বেরিয়ে পড়লাম পায়ে পায়ে গ্রামটা ঘুরে দেখবো বলে | জমে থাকা কুয়াশাঘেরা একটা মিষ্টি গ্রাম, মাঝেমধ্যে রোদের উঁকিঝুঁকি, রাস্তাটা যদিও এখনো পিচ্ছিল | রাস্তার বাঁকে স্কুলফেরত বাচ্চারা আমাদের দেখে কেন হাসছে জানিনা | অচেনা পাহাড়ি ফুলের গন্ধ আর নাম না জানা অনেক পাখির কিচিরমিচির, নির্জনতাকে সঙ্গী করে পথচলা বোধহয় একেই বলে | জিজ্ঞেস করে করে পৌঁছে গেলাম সেই বিখ্যাত রাঙ্গারুন টি এস্টেট এর চা বাগানে | শুধু বিস্তার আর ব্যাপ্তিতে নয়, এই বাগানের চা এর গুনমানেরও জুড়ি মেলা ভার | একসময় এই চা বাগানের আশি শতাংশ চা ই নাকি পৌঁছে যেত 'বাকিংহাম প্যালেস ' এ |
চা বাগান শেষ হতেই দূরে ওইতো দার্জিলিং শহর, ঠিক যেন হাতবাড়ালেই ছোঁয়া যায় | দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো, পরিবেশ আগের থেকে পরিষ্কার কিন্তূ অবাধ্য মেঘগুলো কেন জানিনা এখনো দূর আকাশ ঢেকে রেখেছে !'ঘুমন্ত বুদ্ধ 'কে না দেখতে দেওয়ার অভিসন্ধি যেন |
রাতের রাঙ্গারুন যেন আরও নিথর, আরও বিচ্ছিন্ন |আমাদের হোমস্টের মালিকের সুপুত্র আবার সংগীতশিল্পী | ডিনার শেষে নেপালি গান, গিটার, ড্রাম সহযোগে এই ঐকতান ভোলার নয় | নিজের ঘরে ফিরে দেখি, দার্জিলিং শহরটা যেন এক অজানা ছায়াপথ রচনা করেছে রাতের আকাশে; ঠিক যেন শতসহস্র তারা-নক্ষত্রের ভিড় জমেছে | চেনা শহরটাকে নতুন করে চিনতে শেখালো এই রাঙ্গারুন |
'আশায় বাঁচে চাষা '!ভোর থেকে ক্যামেরা- ট্রাইপড নিয়ে তৈরি আমরা, যদি ওনার দেখা পাওয়া যায় |ভোরের আলো ফোটার সাথে মোরগের ডাক বোধহয় গ্রাম বলেই সম্ভব | না, মেঘ করে আছে এখনো, হয়তো এ যাত্রায় হবার নয়| ভালো করে আলো ফুটলে সামনের পাহাড়ে দার্জিলিং টা দেখা গেলো, আসার আলো ফুটলো যেন | ততক্ষণে আমাদের চা ব্রেকফাস্ট সারা হয়ে গেছে | একটু একটু করে মেঘ ঠেলে উঁকি মারছে সাউথ কাব্রু|আরও একটু পর নর্থ কাব্রু আর কাঞ্চনজঙ্ঘা র নিচের দিকটা |কাঞ্চনজঙ্ঘা কে পুরো ধরা গেলো অনেক পরে | প্রতিবারের মতোই গুণমুগ্ধ ও রূপমুগ্ধ মরণশীল আমি পাথরের মতো দাঁড়িয়ে থাকলাম কিছুক্ষন | ঘোর যখন কাটে, নিচের ঘন মেঘ পাহাড় বেয়ে উঠতে শুরু করেছে ততক্ষনে | হাতে সময় কম, হয়তো আর একটা দিন থেকে গেলে বেশ হতো | বেশ হতো যদি সময় করে সব অজানা পাখিদের নাম জানা যেতো কিংবা হারিয়ে যাওয়া যেত কুয়াশা ঘেরা পাইনের অন্তরালে | সঙ্গী হতো একটা ক্যানভাস;দার্জিলিং শহরকে বুকে নিয়ে ঘুমিয়ে থাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা |
Homestay-Khaling Cottage, Rangaroon
Contact-Mr Kismat Rai and Family
9800835301, 8116013554
রাঙ্গারুন
রাঙ্গারুনরাঙ্গারুন টি এস্টেট
রাতের দার্জিলিং শহর
কাঞ্চনজঙ্ঘা, সামনে দার্জিলিং শহর
Khaling cottage এ আমরা





Comments
Post a Comment